সীতাকুণ্ডে বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ ফেরি চলাচল বন্ধ

জোয়ারের পানিতে লন্ডভন্ড ফেরিঘাটের রাস্তা

জহিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

জোয়ারের পানিতে লন্ডভন্ড ফেরিঘাটের রাস্তা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ ফেরি চলাচল গত ৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাঁশবাড়িয়া ফেরি ঘাটের নবনির্মিত রাস্তা জোয়ারের পানিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাত পাশাপাশি সমুদ্রের উত্তাল জোয়ারের পানিতে মাত্র দুই মাস পূর্বে উদ্বোধন হওয়া নবনির্মিত ফেরিঘাটের রাস্তা অনেক স্থানে ধসে গেছে। সমুদ্রের উত্তাল জোয়ারে একটি ফেরি টাকবোর্ডও পানিতে ডুবে গেছে। সন্দ্বীপের সাথে মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত রাস্তা সংস্কার করে ফেরিঘাট পুনরায় চালু করা হবে।

গত শনিবার সকাল ১০টায় বাঁশবাড়িয়া সন্দ্বীপ ফেরিঘাট ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন সিকদার। এ সময় তার সাথে জেলা জামায়াত, উপজেলা ও ইউনিয়ন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধসহ ফেরিঘাটের সড়ক ঘুরে দেখেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও সন্দ্বীপের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের বলেন, আমরা পরিদর্শনে এসে দেখেছি বাঁশবাড়িয়া ফেরি ঘাটের রাস্তাসহ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা থেকে মাটি সরে গিয়ে ইটবালি কংক্রিট জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ফেরি ঘাটের রাস্তা ও বেরিবাদ দ্রুত সংস্কার করে কোরবানির ঈদের আগেই বাঁশবাড়িয়া-সন্দ্বীপ ফেরিঘাট পুনরায় যেন চালু করা হয়। সন্দ্বীপের মানুষ যেন কোরবানির ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে নিরাপদে ও নির্ভিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি সরকার যেন বাঁশবাড়িয়া সন্দ্বীপে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য দ্রুত কোস্টাল ফেরিও চালু করেন। আগামী বর্ষার মৌসুমীর পূর্বেই যেন সী ট্রাক দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, লাল বোটে করে মানুষ পারাপার বন্ধ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ লাল বোটে যাতায়াত করতে গিয়ে ইতিপূর্বে ১৮ জন মানুষ সাগরপথে প্রাণ হারিয়েছেন। আমি সরকারকে বলব, ওপারে গুপ্তছড়া ঘাটেরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোসহ বাঁশবাড়িয়া অংশের সংস্কার করে পুনরায় যেন মানুষ ফেরিতে চলাচল করতে পারে সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর সংস্কার করে ঈদের আগেই ফেরি চলাচল চালু করতে। সন্দ্বীপের মানুষ বহু বছর পর আশায় বুক বেঁধেছে। আর যেন সন্দ্বীপের মানুষ হতাশ না হন। সরকারের উপদেষ্টা ফাউজুল কবির খান অত্যন্ত আন্তরিক। আমি মনে করি এসব সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরাও প্রয়োজনে পরামর্শ দিব কোথায় কিভাবে কাজ করলে সেটি টেকসই হবে এবং সুফল মিলবে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়েল কনস্ট্রাকশনের মালিক হামিদ হোসেন বলেন, আমরা সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি কোরবানি ঈদের পূর্বেই ফেরি চলাচল আবারো শুরু হবে। আপাতত বিআইডব্লিউটিএ ফেরি নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন। আমরা সড়কে মাটি, বালি পাইলিং করছি। যেখানে যেখানে এগুলো সরে গেছে সেখানে আবারও বসিয়ে দিচ্ছি। তবে এখানে সমুদ্র বেশ উত্তাল হওয়ায় টিকে থাকা খুব কঠিন। এখানে সিসি ঢালাই সড়ক করতে হবে। তা না হলে টেকসই হবে না। আর টাগবোর্ড যেটি ডুবে গেছে সেটি তুলতে সময় লাগবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...