ঈদুল আজহার মোনাজাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি

উপজেলা প্রতিনিধি, উখিয়া (কক্সবাজার)

ঈদুল আজহার মোনাজাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ঈদুল আজহার মোনাজাতে প্রত্যাবাসনের আকুতি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার সকালে লাখো রোহিঙ্গা নামাজ শেষে এ আকুতি জানান।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে এসেছিলাম কোরবানির ঈদের সময়। দেখতে দেখতে ১০ বছর কেটে গেল। জানি না আর কত দিন বাঁচব। আল্লাহর কাছে শুধু চাই, আমার কবরটা যেন আরাকানের মাটিতেই হয়।

রোহিঙ্গা শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলেন, মিয়ানমারে আমরা বড় গরু কোরবানি দিতাম। কৃষিকাজ করে পরিবার ভালোভাবেই চলত। অথচ এখানে কষ্টে দিন কাটছে, এবার কোরবানি দিতেও পারিনি।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল ফর রোহিঙ্গার (ইউসিআর) সংগঠক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রয়োজন। প্রত্যাবাসনই এর একমাত্র সমাধান। আমরা প্রতি ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন আগামী ঈদটা মিয়ানমারে উদযাপন করতে পারি।

স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নানা ক্ষতির মুখে ফেলছে। কার্যকর প্রত্যাবাসন ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান নেই। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সহায়তা কমে এলেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঈদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতি পরিবার এক কেজি করে মাংস পাবে এবং ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় এই কার্যক্রম তদারক করছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত ও কোরবানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন