আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি করায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি করায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

ফেনীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় স্বামী-স্ত্রীকে সাড়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেলে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ মে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার তার ভাসুর আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আবদুর রহমান জোরপূর্বক নাজমা আক্তারকে ধর্ষণ করেন। এতে ২০২২ সালের ২১ অক্টোবর উম্মে হাবিবা নামে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয় এবং শিশুটির পিতা হিসেবে আবদুর রহমানকে দাবি করা হয়।

এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই শিশুর নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদও তৈরি করা হয়, যেখানে পিতা হিসেবে আবদুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শিশুটির পিতা আবদুর রহমান নন বরং শহীদুল ইসলাম।

মিথ্যা মামলার কারণে আবদুর রহমানকে কারাবাসও করতে হয়। পরে পিবিআই তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করে। এরপর ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে সিআইডি পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষা করে।

সিআইডির প্রতিবেদনে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, উম্মে হাবিবার পিতা শহীদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২০ মে সিআইডির পরিদর্শক মো. দুলাল মিয়া আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদন জমা দেন। এর ভিত্তিতে একই বছরের ২৯ অক্টোবর আদালত আবদুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর আবদুর রহমান বাদী হয়ে শহীদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালত ২০২৫ সালের ৪ মে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দুইজন ও আসামিপক্ষে পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে শহীদুল ও নাজমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আহসান কবীর বেঙ্গল, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট খালেদ মো. আরিফ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মো. কায়কোবাদ।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মিথ্যা মামলায় এ রায় নজির হয়ে থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন