চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, এক উপ-পুলিশ কমিশনারের ওপর হামলা এবং অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাকলিয়ার উপপরিদর্শক আকবর হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞা নামা আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইমান। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে যারা সহিংস ঘটনায় জড়িত তাদের আসামি করে এই মামলা করা হয়। এই ঘটনায় ছাত্রলীগসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, এই গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা শুধু সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ওই এলাকার আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামিকে ‘সরকারকে বিব্রত করা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে’ পিটিয়ে হত্যার পরিকল্পনাও করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে পুলিশ-এমনটাই দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
গত ২১ মে সাড়ে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে স্থানীয় ডেকোরেশন কর্মচারী মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। ওই দিন গোটা এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের একটি গাড়িতে।
বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও। ওই সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সহিংস পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে। গ্রেপ্তারকৃত মনির হোসেনকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর রাত থেকেই পুলিশ, ডিবি ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। সোমবার (২৫ মে) রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

