শহীদ হাসানের মায়ের ইচ্ছায় দাফন হয় নানার বাড়িতে

শহীদ হাসানের মায়ের ইচ্ছায় দাফন হয় নানার বাড়িতে

২৪ জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ মো. হাসানের মায়ের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নানার বাড়ির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকালে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের চেউয়াখালি বাজার এলাকায় শহীদ হাসানের জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে।

জানাজা পূর্ববর্তী আলোচনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতে আমীর ইসহাক খন্দকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন অর্থ আবু তায়েফ মোহাম্মদ আরিফ, চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া।

বক্তব্যে খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, 'বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জাতিকে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। স্বৈরাচার পতনে শহীদ হাসানের আত্মত্যাগ ও অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।' শহীদের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে শহীদ মো. হাসানদের আত্মত্যাগের ফলে আমরা পুনরায় স্বৈরাচারমুক্ত একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার পেয়েছি। তাদের এই অবদান ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং দোয়া কামনা করি, একমাত্র ছেলে হারিয়ে অসহায় পরিবারকে আল্লাহ শোক সইবার তৌফিক দান করুন।' জানাজা শেষে তিনি শহীদ হাসানের মা ও পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করেন। যেকোনো সমস্যায় নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শহীদ হাসানের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

শহীদ হাসানের বোন সুইটি আক্তার বলেন, 'ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য যথাযথ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।' সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, সরকারের কাছে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই তাদের। তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ জানান তিনি।

শহীদের মা সন্তান হারানোর বেদনায় আত্মহারা ও বাকরুদ্ধ হয়ে শোকে বিহ্বল। এদিকে দুই বোন একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে বিভোর ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের টাইগারপাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত হাসানকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেষে তাকে সে দেশের পায়াথাই পাহোলিওথিন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে হাসানের মৃত্যু হয়। হাসান তার পরিবারের একমাত্র ছেলে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় আমার দেশকে জানান, 'শহীদ হাসানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানায়। নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের চেওয়াখালী গ্রামে তার নানার বাড়ি। শহীদের মায়ের শেষ ইচ্ছায় ছেলেকে নানার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।'

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন