লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমীর শিক্ষকদের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করে ওই একাডেমীর শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। মেহেদির সহপাঠীরা জানান আপন নামের দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর আইফোন মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে একাডেমীর দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আপন, হাবিব, জুবায়ের, সালমান, শামীম, জালিস, রাহাত সহ ৯/১০জন শিক্ষার্থী জিজ্ঞাসাবাদের নামে ( নীচের শ্রেনির) ৭ ম /৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী মেহেদী, ইসমাইলসহ বেশ কয়েকজনকে দফায় দফায় নির্যাতন চালায়। উপায়ান্তর না দেখে মেহেদীসহ নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবহিত করলে অধ্যক্ষ তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেন। তারা সাথে সাথে লিখিত অভিযোগ দিলেও অধ্যক্ষ তা আমলে না নিয়ে কালক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অপরাধে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা মেহেদিকে আবারও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কলেজ হোস্টেলের বারান্দায় মেহেদী মাফলার পেঁচিয়ে ১৬ জুন মঙ্গলবার বিকালে আত্মহত্যা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেহেদির আত্মীয়-স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা একাডেমীতে হামলা করে ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে একাডেমীর অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আত্মহননের পথ বেছে নেয় বলে একটি বিবৃতি প্রদান করেন।
রামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এক বিবৃতিতে বলেন, স্কুল ছাত্র মেহেদী হাসানের মৃত্যুর দায় একাডেমী কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ও রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের কে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন।
এদিকে মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি করে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রামগঞ্জ শহরের চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

