চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে চট্টগ্রামের গণপরিবহনগুলোতে শুরু হয়েছে ভাড়া নৈরাজ্য। নির্ধারিত হার উপেক্ষা করে চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে উত্তেজনা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে এখন পর্যন্ত ভাড়া তেমন না বাড়ালেও নগরীর অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে ডিজেলচালিত মাহিন্দ্রা ও টেম্পোতে ভাড়া ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ এবং বহদ্দারহাট থেকে ওয়াসা পর্যন্ত ভাড়া ১৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে লোকাল বাসগুলোতেও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মুরাদপুর থেকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট রুটে ভাড়া ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

যাত্রীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। চালকরা কিলোমিটারভিত্তিক হিসাবও দিচ্ছেন না; বরং নিজেদের ইচ্ছেমতো ১০ টাকাকে ২০ টাকা, ২০ টাকাকে ২৫ টাকা করে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি সিএনজি অটোরিকশাতেও অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যদিও গ্যাসের কোনো সংকট নেই।

এদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনেক পরিবহন সড়কে নামছে না। বেশকিছু যানবাহন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে থাকায় সড়কে যানবাহনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়ি পাচ্ছেন না। এই সুযোগে চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।

ভাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি

নগরীর জিইসি, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ ও একে খান মোড়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি দাবি করাকে কেন্দ্র করে একাধিক বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে যাত্রীদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগাচ্ছেন চালক ও সহকারীরা। বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা থেকে আসা চাকরিজীবী রাহাতুল ইসলাম বলেন, আগে যে পথে ১৫ টাকা ভাড়া দিতাম, এখন সেখানে ২৫ টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বা গালিগালাজ করা হয়। আমাদের আয় বাড়েনি, কিন্তু খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

পোশাক শ্রমিক আব্দুর রহমান একই সুরে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালকদের আচরণও বদলে গেছে। মনে হলো ইরানের যুদ্ধটা আমাদের দেশে চলছে।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পথে পথে চাঁদাবাজি ও ওয়েবিল ব্যবস্থার কারণে তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

এদিকে বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) কে এম মাহবুব কবির জানান, সরকারিভাবে এখনো নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা কার্যকর করা হবে। ততদিন পর্যন্ত আইনগতভাবে আগের ভাড়াই বহাল থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন