চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল। প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে জাহাজের ট্যাংকের পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ট্যাংক থেকে পানি অপসারণের সময় পানিতে দ্রবীভূত গ্যাস বেরিয়ে আসে এবং শ্রমিকরা তার সংস্পর্শে এসে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর গঠিত সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে গত বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির একাধিক সদস্য।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত দলের প্রধান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
এই তদন্ত দলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন শোয়েব আহমেদ, ঢাকার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খানসহ সাতজন বিশেষজ্ঞ সদস্য রয়েছেন।
তদন্ত দলের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে বাতাসে গ্যাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় গ্যাসটি ছিল। ট্যাংকের পানি বের হওয়ার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড বের হয় এবং সেই গ্যাসের নাগালে আসতেই শ্রমিকরা আহত হন।
বিশেষজ্ঞ দলটির সদস্যরা জানান, ফেরদৌস স্টিলের পুরোনো সেই জাহাজটিতে চারটি ট্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকের কাজ আগেই শেষ হয়েছিল। তিন নম্বর ট্যাংকে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার যখন গ্যাস লিকেজের ঘটনাটি ঘটে, তখন ওই ট্যাংকে ব্যালাস্টের পানি বের করার কাজ চলছিল। এই পানি বের হওয়ার সময়ই পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস আকারে বের হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।
তারা আরো জানান, ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে সংগৃহীত কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কী অবস্থায় ছিল, কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ঘটনাস্থলে পাঁচজন ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো পাঁচজনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

