গাছ কাটার ভিডিও ছড়ানোর জেরে সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা, ১২ আসামি গ্রেপ্তার

গাছ কাটার ভিডিও ছড়ানোর জেরে সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা, ১২ আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আজাদ নামের এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ৩০ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জাহেদুলের মা মনোয়ারা বেগম গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নামসহ আরো পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে জাহেদুলের তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। জয়নাল আবেদীন মানিক নামের এক ব্যক্তি উক্ত ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করলে জাহেদুল তাকে ও তার বন্ধুদের সরাসরি হুমকি দেন।

ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় কয়েকজন জাহেদুলকে ঘিরে ধরে মারধর করেন এবং ভিডিওটি প্রকাশের বিষয়ে কৈফিয়ত চান। পরে রাত ১০টার দিকে জাহেদুল তার সঙ্গী মো. ওয়াহিদকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় পৌঁছালে আসামীরা গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথ রোধ করে। এ সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে জাহেদুল ও ওয়াহিদ গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহেদুলের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে ডিবি। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মামলার আরো ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মাধ্যমে মামলাটির এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে মোট ১২ জনকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আবদুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় নিজ অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...