চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই মুসল্লিরা সমবেত হন ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা। নামাজ শেষে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নগরীর প্রথম ও প্রধান প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানে প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়, একই ঈদগাহে দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরি। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরি।
একই সময়ে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আলাদা একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি ও ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে নগরের ৯০টি স্থানে আলাদা ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য বড় ঈদ জামাতের মধ্যে লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে ঈদের জামাতে শামিল হন মুসল্লিরা। ঈদের নামাজ শেষে খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের নামাজ আদায় করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এমপি আবু সুফিয়ান, এমপি এরশাদ উল্লাহ, এমপি সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সোলায়মান আলম শেঠসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নগরীর কাট্টলীতে নিজের বাড়ির পাশের ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হাটহাজারিতে ঈদের নামাজ আদায় করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমী প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এদিকে ঈদের জামাত উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন মসজিত ও ঈদগাহ এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। পাশাপাশি নগরজুড়ে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

