যেভাবে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

যেভাবে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন
তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের আগে কয়েক দিন ধরে তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পর ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ডেভিড ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডেভিড ইমনের সঙ্গে ছিলেন তার তিন সহযোগী আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীম। তাঁদের আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যশোরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও চেকপোস্ট বসানো হয়। গভীর রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি চেকপোস্টে সন্দেহভাজন চারজনকে থামিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বিকেলে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তার তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক অন্যদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে ফোন করার অভিযোগ ওঠে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।

ওই সময় নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি ওই ব্যবসায়ীকে বলেছিলেন, ‘আমি কে, তা পুলিশের কাছ থেকেই জেনে নিন।’ এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে এবং তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধজগতের আলোচিত নাম ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নথি ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে এনে সংশ্লিষ্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সঙ্গে আটক তিন সহযোগীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন