নীল দলের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল ঢাবি প্রশাসন

নীল দলের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল ঢাবি প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবি খতিয়ে দেখা এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষক বা সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৭ বছরে ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদকে সমর্থন, ছাত্র ও ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের দমন-পীড়নে সম্পৃক্ততা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নীল দলের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখবে কমিটি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

সিন্ডিকেট সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে যদি কোনো শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইভাবে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’’ ব্যানারে অভিযোগপত্র আসার পর উপাচার্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষককে দোষী পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সেই সংগঠনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক সমিতি'র ব্যানারে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে নীল দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ নীল দলের ২৩১ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন নীল দলের শিক্ষকরা। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৬ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর যখন সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিক্ষার্থী প্রাণ হারান, তখন ১ আগস্ট নীল দলের শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

এছাড়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ৩০ জুলাই নীল দলের আরেক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পদত্যাগ দাবিকারী সাদা দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে আয়োজিত র‌্যালি ও মানববন্ধনে ‘‘কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সকল হত্যা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের দ্রুত বিচার’’ দাবি জানানো হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরই সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয়েছিল, যা গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি অবমাননাকর ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সিন্ডিকেটে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংগঠনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন