দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা

জবি ক্যাম্পাস যেন চোরের স্বর্গরাজ্য, বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

জবি ক্যাম্পাস যেন চোরের স্বর্গরাজ্য, বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে একের পর এক চুরি, বিশেষ করে সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দিনের পর দিন একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাব এবং নজরদারির ঘাটতির কারণে চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চুরিসংক্রান্ত অভিযোগ জমা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আইন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আশিকের একটি সাইকেল চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে চোরের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এখন পর্যন্ত সাইকেল উদ্ধার বা জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশিক জানান, ঘটনার পর তিনি প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করেন। তবে সেখান থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা বা সমাধানের কোনো আশ্বাস পাননি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা যারা ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে থাকি, তাদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা সাইকেল। সেটিও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে?

শিক্ষার্থীরা জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কয়েক দিন আগেও একই ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীর সাইকেল ক্যাম্পাস থেকেই চুরি হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সাইকেল, মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ ব্যক্তিগত মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও কার্যকর ফল পাননি বলে দাবি তাদের।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা চলে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারেনি। চুরি ঠেকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি কিংবা অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, প্রক্টর অফিস শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। প্রশাসনের অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংকট সমাধানে প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তাকর্মীর সংকট। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ক্যাম্পাসের পরিধির তুলনায় নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় সব জায়গায় কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি এবং চুরির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান না হয়ে চোরদের জন্য সহজ টার্গেটে পরিণত হবে। শিক্ষার্থীরা এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, সাইকেল চুরির ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যার সাইকেল চুরি হয়েছে, সে সম্ভবত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। তবে জিডির কপি এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। এর আগেও ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব চুরির ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে।

তিনি বলেন, চুরি প্রতিরোধে আমরা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিবর্তন করেছি। আশা করেছিলাম এরপর এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। এখন থেকে সাইকেলস্ট্যান্ডে সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে থাকবেন।

প্রক্টর আরো বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে যত চুরির ঘটনা ঘটেছে, সবই বহিরাগতদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক চুরি করেছে—এমন প্রমাণ আমরা পাইনি।

বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি বাধ্যতামূলকভাবে আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অথবা ডিজিটাল অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করা যায়, তাহলে বহিরাগতদের প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিশ্চিত করা গেলে চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন