চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবার ভিন্ন আমেজে ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করবেন প্রায় ২ লাখ সন্দ্বীপবাসী। চাঁদ দেখা গেলে ৩১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিম জাহানের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ ঈদকে ঘিরে সন্দ্বীপবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা। বিশেষ করে সন্দ্বীপ চ্যানেলের নৌপথে "বাঁশবাড়িয়া-টু গুপ্তছড়া" ঘাটে ফেরি চালু হওয়ায় যোগাযোগের নতুন দিগন্তের সূচিত হয়েছে। একই সাথে এ চ্যানেল পারাপারে বহুলাংশে ঝুঁকিও কমে এসেছে। বলতে হয় শতভাগ-নির্বিঘ্নে সন্দ্বীপবাসী গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ উদযাপন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ সোমবার বহুল কাঙ্ক্ষিত সন্দ্বীপের বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া ফেরিঘাটটি উদ্বোধন করা হয়। আর-এ ফেরীঘাট উদ্বোধনের ৫ দিন পর সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের হালহকিকত। রীতিমতো অনেকটা চমকে ওঠার মতো অবস্থা। আনুমানিক নব্বই বছরের এক বৃদ্ধাকে সন্দ্বীপে যেতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে অন্যান্য আত্মা-স্বজনদেরও দেখা যায়। অবশ্য এবার তারা বহু বছর পর জন্মভূমি গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে বলে ওই বৃদ্ধার এক স্বজন জানান। শুধু সন্দ্বীপে যাওয়া-আসার বিড়ম্বনায় এ বৃদ্ধা সপরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে আসছেন দীর্ঘ বছর ধরে। তবে ওই বৃদ্ধার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইউরোপসহ আমেরিকায় বসবাস করে আসছে। তারা সকলেই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নের অধিবাসী ও সন্দ্বীপ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. হানিফ বলেন, বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়া ফেরীঘাট চালু হওয়ায় সন্দ্বীপ চ্যানেল পারাপারে ঝুঁকি কমে এসেছে। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে এবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এক সময়ে সন্দ্বীপ চ্যানেল পার হওয়া মানে, প্রাণ হাতের মুঠো নিয়ে যাওয়া। আশি দশকের দিকে সন্দ্বীপের সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের মা-বোনসহ অসংখ্য সন্দ্বীপবাসী প্রাণ হারিয়েছেন সন্দ্বীপ চ্যানেলে স্টিমার ডুবে। এভাবে আরও একাধিকবার নৌকা-স্টিমার ডুবে ব্যাপক প্রাণ হানির ঘটনা ঘটে এ চ্যানেলে। বর্তমানে এ ফেরিঘাট চালু হওয়ায় দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যদিকে সন্দ্বীপবাসীদের বাড়িতে যাওয়ার সাহসও বেড়েছে। তবে এবার ঈদে এ পরিবারটির মতো দেশের প্রত্যন্তাঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু সন্দ্বীপবাসী ঈদ উদযাপন করবেন সন্দ্বীপে গিয়ে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে। তাই এবারের ঈদে সন্দ্বীপবাসীদের মধ্যে বাড়তি আমেজ সৃষ্টি হবে।
গত ২৮ মার্চ রাতে ওই বৃদ্ধার পরিবারসহ প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে বিআরটিসি একটি এসি বাস। চট্টগ্রাম হালি শহর থেকেও সন্দ্বীপ এক্সপ্রেস নামের একটি মিনি বাস যাত্রী নিয়ে আসে। বাস ও মিনি বাসগুলো সকাল ৭টার মধ্যে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে পৌঁছলেও সোয়া ৮টায় ফেরি ছাড়ে গুপ্তছড়া ঘাটের উদ্দেশ্যে। একইভাবে ফেরিতে মাইক্রোবাস, কার ও মোটরসাইকেল নিয়ে সরাসরি সন্দ্বীপে যেতে পারছেন সন্দ্বীপবাসীরা। তবে সন্দ্বীপবাসীদের ঈদে বাড়িতে যাওয়াকে নির্বিঘ্ন রাখতে ২৯ মার্চ থেকে মালবাহী ট্রাকসহ সকল পণ্যবাহী যান ফেরি পারাপারে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্তৃপক্ষ।
বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাট কাউন্টারে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তা গনেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ফেরি পারাপারে বিআইডব্লিউটি-এ যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। অতীতে যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় স্পিডবোট করে ৫-৭শ টাকা দিয়ে চ্যানেল পারাপার হতে হতো প্রতি যাত্রীকে। সেখানে সুলভ যাত্রীরা মাত্র ৮০ টাকা, ডিলাক্স ও উচ্চ শ্রেণির যাত্রীরা ১০০টাকা টিকেট কেটে সন্দ্বীপ যাওয়া-আসার সুযোগে পাচ্ছে। তাছাড়া বাস ২৪৫০ টাকা, মিনি বাস ১৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৪০০ টাকা, জীপ ১৩০০ টাকা, সিএনজি ১৫০ টাকা, মোটরসাইকেল ১০০ টাকা ও বাই সাইকেল ৭৫ টাকাসহ মালবাহী পরিবহনের পৃথকভাবে টিকেট করে পারাপারে সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা এবং দুপুর দেড়টার দিকে দ্বিতীয় ফেরি ছেড়ে যায়। তবে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর ফেরি ছাড়া না ছাড়া। এরমধ্যে যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার্থে সি- ট্রাকও চালু করা হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ যাত্রী না থাকায় আপাতত সি-ট্রাক সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। ঈদে যাত্রীদের চাপ বাড়লে আবারও সি-ট্রাক সার্ভিস চালু করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

