ভুয়া পরিচয়, কাগুজে প্রতিষ্ঠান আর প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির বিভিন্ন শাখা থেকে কমপক্ষে ৪৭ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে সাতটি পৃথক মামলায় ৯৩ জনকে আসামি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের চট্টগ্রাম–১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামের কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে তাদের ‘ব্যবসায়ী’ বানিয়ে ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা হয়। এরপর হোছন ট্রেডিং, কর্ণফুলী এম্পোরিয়াম, জহির ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাটস আই করপোরেশন, শাহ ট্রেডিং, হারুন অ্যান্ড সন্স ও মল্লিক অ্যান্ড ব্রাদার্স-এই সব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে এসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই।
দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ আমার দেশকে বলেন, কৃষক আর দিনমজুরদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আগেও এ ধরনের আত্মসাতের মামলা হয়েছে, আরও কয়েকটি তদন্তাধীন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইউসিবির তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা, শাখা ব্যবস্থাপক, ক্রেডিট–অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি যোগসাজশে ছিলেন। জাল ট্রেড লাইসেন্স, ভুয়া কাগজপত্র, মিথ্যা যাচাই প্রতিবেদন-সবই তৈরি করা হয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে। ঋণের টাকা পরে বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়।
পাহাড়তলী শাখায় ‘শাহ ট্রেডিং’-এর নামে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউসিবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি–সিইও, একাধিক শাখা প্রধান, ক্রেডিট কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা আসামি হয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ আছে, ইউসিবির সাবেক পরিচালক ও এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং সাবেক পরিচালক বশির আহমেদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের প্রভাব ও নির্দেশনায় একটি প্রভাবশালী চক্র ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে একই কৌশলে ঋণ নিয়ে অর্থ পাচার করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

