আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর

কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য অফিস পরিদর্শনে এমপি, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অধিকাংশই অনুপস্থিত

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য অফিস পরিদর্শনে এমপি, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অধিকাংশই অনুপস্থিত
ফাঁকা অফিসে বসে আছেন এমপি। ইনসেটে প্রধান প্রকৌশলী। ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হকসহ অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অফিস চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য অফিসের অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে অফিস প্রধানের নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছিল। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার অফিস চলাকালে কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। পরিদর্শনের সময় তিনি কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখা ও কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় দেখা যায়, প্রধান প্রকৌশলীর কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। অফিস সময়ের মধ্যে এমন অনুপস্থিতি সরকারি সেবার মান এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে এমপি কার্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে উপস্থিতি সংকট এবং দায়িত্ব পালনে শিথিলতার অভিযোগের বাস্তব চিত্র দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবার জন্য প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে এই কার্যালয়ে আসতে হয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে অনেক সময় সেবা প্রত্যাশীরা ভোগান্তির শিকার হন। সাম্প্রতিক এই পরিদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো আবারও সামনে এসেছে।

এই বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন