চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে স্ক্যামিং

প্রভাবশালী এমপির আত্মীয় বিদেশি চক্রের মূল হোতা

প্রভাবশালী এমপির আত্মীয় বিদেশি চক্রের মূল হোতা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের স্ক্যামিং কার্যক্রমের নেপথ্যের মূল হোতাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চক্রটির মূল হোতা প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তার সঙ্গে চট্টগ্রামের খুলশীতে গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশি নাগরিকের যোগাযোগের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম, এমপির সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক এবং সম্পর্কের ধরন এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ১৯৩টি ডিভাইসসহ ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে কক্সবাজারে ১,৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তার সঙ্গে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের যোগাযোগ ও স্ক্যামিং কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি চট্টগ্রামের এক এমপির আত্মীয়।

আটক ৬৩ বিদেশির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গতকাল মঙ্গলবার বিকালে আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলে কাউকে সতর্ক করে দিতে চাই না। সবার আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে চাই। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

এর আগে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছিল, ৬৩ বিদেশিকে আটকের ঘটনায় মূল হোতার নাম ও বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর তাদের হাতে এসেছে। অভিযানের খবর প্রকাশের পর থেকে তিনি ফোন বন্ধ রেখেছেন। তবে পুলিশ তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছিলেন সিটিটিসির উপকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) শামীম হোসেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৬৩ বিদেশির বাংলাদেশে অবস্থান, বাসাভাড়া, যোগাযোগ ও স্ক্যামিং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় ওই ব্যক্তির নাম উঠে আসে। পরে তার পরিচয় যাচাই করে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী, তিনি একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের আত্মীয়। তবে এমপির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক সম্পর্কের ধরন কী, তা এখনো প্রকাশ করেনি তদন্ত সংস্থাগুলো।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিক ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশি মোহাম্মদ মহসিনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসি (প্রসিকিউশন) আরিফ ইকবাল।

একই সঙ্গে বিদেশিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ মোট ১৯১টি ডিজিটাল যন্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। এসব যন্ত্র থেকে তাদের যোগাযোগ, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অনলাইন হিসাব, অর্থ লেনদেন এবং বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য খোঁজা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, স্ক্যামিংয়ের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা গেলে ৬৩ বিদেশিকে ঘিরে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের দেশীয় যোগাযোগ, অর্থের উৎস এবং বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আর কারা যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে আরো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...