এসএসসির ফলাফলে পটিয়ায় হতাশা, ব্যতিক্রম শীর্ষ কয়েক স্কুল

এসএসসির ফলাফলে পটিয়ায় হতাশা, ব্যতিক্রম শীর্ষ কয়েক স্কুল
পটিয়া উপজেলায় পাসের হারে শীর্ষে থাকা চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ছবি: আমার দেশ

এবারের এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর নানা সতর্কবার্তার পরও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল, পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাস। এ বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০৪ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে পটিয়া উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয়েই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হলেও এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। পাসের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয় পৌরসদরে অবস্থিত। বিদ্যালয়টি পৌর এলাকায় হলেও এখান থেকে ৬৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ১৩ জন পাস করেছে। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। বিদ্যালয়টির পাসের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৫ জন পাস করেছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

হাইদগাঁও ইউনিয়নের হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৩ জন পাস করেছে। এ বিদ্যালয় থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫ জন পাস করেছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ফলাফলে গ্রামের কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার কম থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে অনেক বিদ্যালয়৷ তন্মধ্যে জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, মুকুটনাইট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন ও করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষ পাঁচ বিদ্যালয়

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে উপজেলার শীর্ষ পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০৪ জন পাস করেছে এবং ৫৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২৫ জন পাস করেছে এবং ২২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

সৈয়দ আবদুন নুর উচ্চ বিদ্যালয় (এসএ নুর) থেকে ২৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩৩ জন পাস করেছে এবং ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় জিপিএ-৫ এর এই অর্জনটি তেমন আলোচনায় আসেনি।

খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০৭ জন পাস করেছে। এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল

অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পটিয়া উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। যা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদ্যালয়গুলোর তুলনায় ১৭ শতাংশের বেশি।

এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮৫ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়ানোর তাগিদ

ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে বলেন, গ্রামের বিদ্যালয় হওয়ায় বিভিন্ন সুপারিশে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে গিয়ে এমন ফলাফল হয়েছে। বিভিন্ন চাপের কারণে তিনি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। তবে শিক্ষকদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, সারা দেশের যে অবস্থা, তার ছোঁয়া তাদের বিদ্যালয়েও লেগেছে। তাছাড়া বিগত বছরের কিছু শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ফলাফল ভালো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

পাসের হারে প্রথম হওয়া চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাসের প্রধান শিক্ষিকা শাহিদা নাছরিন শিউলি জানান, আমাদের বিদ্যালয় সবসময় চেষ্টা করে ভালো ফলাফল উপহার দিতে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদানের কারণে সবসময় শীর্ষে থাকে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপেন কান্তি বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়ানো গেলে ফলাফল বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হতো। এবারের ফলাফলে পটিয়া উপজেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা সন্তোষজনক নয়। তবে পটিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় ভালো হয়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কম হলেও মাদ্রাসায় পাসের হার বেশি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন