লোহাগাড়ায় মৎস্য খাতে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি

উপজেলা প্রতিনিধি, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

লোহাগাড়ায় মৎস্য খাতে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কৃষি ও মৎস্য খাতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খুবই ভয়াবহ। পুকুর, মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ। এতে উপজেলার হাজারো কৃষক ও মৎস্যচাষি মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠায় নানা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে শত শত কৃষক ও মৎস্যচাষির মধ্যে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহাগাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ১৬২০টি পুকুর, দিঘি ও মাছের প্রজেক্টের ২৬২ হেক্টর মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকারও বেশি।

মৎস্য খামারি সাদেক বলেন, ‘টানা বর্ষণে বৃষ্টির পানির কারণে অবকাঠামো সংস্কারসহ আমার ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নেওয়া হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুত আমরা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে মাছ চাষে আবারও ভূমিকা পালন করতে পারব।’

মৎস্য খামারি মনজুর আলম বলেন, ‘প্রবল পানির স্রোতে আমার প্রজেক্ট থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মাছ ভেসে গেছে। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আমরা যারা মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে পরবর্তীতে কেউ মাছের চাষ করতে আগ্রহী হবে বলে আমার মনে হয় না।’

মৎস্য খাতের পাশাপাশি কৃষিতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ জায়গা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তারিত জানানো যাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান বলেন, বিশেষ করে উপজেলার আধুনগর, লোহাগাড়া, চুনতি, বড় হাতিয়া ইউনিয়ন নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মৎস্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। মৎস্য খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতও ব্যাপক আকারে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন