এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
ফাইল ছবি

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড। শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

আসামিরা সাবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন