জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের চট্টগ্রাম বার নির্বাচন বর্জন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের চট্টগ্রাম বার নির্বাচন বর্জন

মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা, অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জন করেছেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। একই সাথে তারা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১০টা থেকে জামায়াতপন্থি আইনজীবী ও ইসলামিক ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে আইনজীবীরা এনেক্স ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধভাবে বাতিল করা হয়েছে। সম্পূর্ণ একতরফা ও একদলীয়ভাবে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। যা অতীতে আমরা স্বৈরাচারী আমলে দেশের জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি। এই ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে আইনজীবী এনেক্স ভবন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রে কোন ভোটারকে বাধা দেওয়া কিংবা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মোট ২১টি পদের মধ্যে ৯টি পদে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সঠিক সময়ে মনোনয়ন দাখিল না করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে দেয়। তবে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে ইসি। যদিও ওই ১২টি পদের প্রার্থীদের মধ্যে একজন সহ-সভাপতি ছাড়া বাকি সবকটি সদস্য পদের প্রার্থী।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৪ মে জামায়াতপন্থীসহ সাধারণ ১৬৬ জন আইনজীবী একটি তলবী সভা আহ্বান করেন, তবে সেখানে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যান। পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

২০ মে (বুধবার) উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অ্যাডভোকেট রওশন আরার নেতৃত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন বহাল রাখে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদেশ দেয়।

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম বারের বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন পদে থাকা জামায়াতপন্থি ৭ জন আইনজীবী একযোগে পদত্যাগ করেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন