আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আদালতের হাজতখানায় আ. লীগ নেতাদের ‘বেয়াইখানা’, ৫ পুলিশ প্রত্যাহার

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী

আদালতের হাজতখানায় আ. লীগ নেতাদের ‘বেয়াইখানা’, ৫ পুলিশ প্রত্যাহার

নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’ (বর-কনের বাবার আপ্যায়ন) আয়োজনের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার রাত ৯টায় নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে হাতিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন— সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম, সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন ও মো. হাসান।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম। তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনাটি ঘটে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

কারাগারে থাকা অবস্থায় দুই নেতার পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জ যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের বিয়ে হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মামলার হাজিরার জন্য আদালতে নেওয়া হলে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাজতখানার ভেতরে পরিবারের সদস্যরা ‘বেয়াইখানা’র আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য নির্ধারিত হাজতখানায় উপস্থিত ছিলেন আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি, বর ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও একজন যুবক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন এটিএসআই কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নং-৬৩৬), মো. হাসান (নং-৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (নং-২২০)।

প্রসঙ্গত, হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় থাকা দুই নেতার পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় আদালতে হাজিরার দিনই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় এ বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন