পিপিপিতে ঝুঁকছে সরকার, ঋণনির্ভরতা কমছে: অর্থমন্ত্রী

পিপিপিতে ঝুঁকছে সরকার, ঋণনির্ভরতা কমছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতির সংজ্ঞা বদলে গেছে। আগে যেকোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হতো। এখন সেটার পরিবর্তে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে ঝুঁকছে সরকার। আমরা সবক্ষেত্রে এই সিস্টেম প্রয়োগের চেষ্টা করছি। সরকারও অর্থায়ন করবে, বেসরকারি অর্থায়ন থাকবে এবং এনজিওগুলোও অর্থায়ন করবে। প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর করতে আমরা এই সিস্টেম বেছে নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার নগরীর রেডিসন ব্লু ভে বিউ হোটেলে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ম্যাক্স ফাউন্ডেশন এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর (এমওইউ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, উন্নয়নে বেসরকারি অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নগরের ৪০, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পানির সংকট তীব্র। এটি কোন সার্ভিস নয়, সুপেয় পানি জনগণের দ্বার গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাই আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের দ্বারে দ্বারে নিরাপদ, সুপেয় পানি সরবরাহ করতে কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে এটি পাইলটিং আকারে শুরু হবে। তবে সরকারের একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। একটি সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং প্রান্তিক সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে এটি পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। সরকার একা সবসময় প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। এনজিওগুলোর রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের সঙ্গে ব্যাপক সংযোগ, বেসরকারি খাতের আছে অভিজ্ঞতা, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ। সরকারও তাদের সাথে কাজ করে থাকে। এই তিনটি শক্তিকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বলেছেন, তাদের দেশে একসময় খাল দূষণ ছিল। জলাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নেই। তারা খালে বর্তমানে সাতার কাটতে পারে এবং নৌ যান চলাচল করে। তারা খালকে অর্থনীতির কাজে লাগাচ্ছে। সেখান থেকে তাদের রাজস্ব আসছে। আমাদের চট্টগ্রামেও সেরকম সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে এই বন্দরনগরীতে সেরক ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি। জনজীবনে স্বস্তি নেমে আসবে, নগরের অর্থনীতিতে এগুলো ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নেদারল্যান্ডের উপ-রাষ্ট্রদূত ইয়ানা ভান ডের লিন্ডেন বলেন, পানি খাতে বাংলাদেশের সাথে নেদারল্যান্ডসের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। "আমাদের সম্পর্ক এখন কেবল সাহায্য বা অনুদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে এগোচ্ছে। আমরা চাই টেকসই ব্যবসায়িক মডেল ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে, আর চট্টগ্রাম থেকেই আমরা এটি শুরু করতে চাই।"

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, সরকারি তদারকি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগ একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রামে আর কোন পানির সংকট থাকবে না। আমরা সেই কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুপেয় পানি পাবে নগরবাসী। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমরা পানির মানও বাড়াচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের উপ-রাষ্ট্রদূত ও বাণিজ্য ও উন্নয়ন প্রধান ইয়ানা ভান ডের লিন্ডেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইসরাফিল খসরু, ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (ম্যাক্স ট্যাপ ওয়াটার) ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে ওঠে আসে দুটি ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯ জন মানুষের নিরাপদে খাওয়ার পানির সুব্যবস্থা নেই। সেখানে ওয়াসার পাইপলাইনের পানির সুবিধা পান মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পরিবার। ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত—যেখানে জাতীয় নিরাপদ সীমা ১,০০০ পিপিএম, সেখানে পরীক্ষায় পানির লবণাক্ততা পাওয়া গেছে ৬,০০০ পিপিএম পর্যন্ত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন