চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে আছাড় দিয়ে হত্যা করা হয়েছে চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে। নিহত শিশুর নাম নুর আব্দুল্লাহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে, পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের নুরুল মোস্তফা ভূঁইয়া বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নুর আব্দুল্লাহ (৪) ওই এলাকার নুর আলম রাসেল (৩২) ও রূপা আক্তার (২৫) দম্পতির একমাত্র সন্তান। এর আগে প্রসবকালে তাদের প্রথম সন্তান মারা যায়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে তারা ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে এতে বাধা দেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যেই শিশুটির ওপর চালানো হয় নির্মম হামলা।
নিহত শিশুর বাবা নুর আলম রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমার স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই আহত হয়। আমার চার বছরের শিশুকে প্রথমে লাকড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, পরে তাকে তুলে আছাড় দিয়ে হত্যা করা হয়। আমি আমার একমাত্র সন্তান হারালাম—কার কাছে বিচার চাইব?”
এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নুরুল মোস্তফা (৬৫), জোসনা আরা বেগম (৫৫) ও মোহাম্মদ নুর আলম (৩০)। আহতদের মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নুর আব্দুল্লাহকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম (৩২) জানান, জমি দখলের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এর আগেও অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উত্তর), চট্টগ্রাম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন, দ্বীন ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, রহিমা বেগম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ মাহফুজ, মোহাম্মদ রাজিব এবং দ্বীন ইসলামের স্ত্রী রিজিয়া।
নিষ্পাপ এক শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

