সাংগ্রাই: জলকেলিতে সিক্ত মারমা জনগোষ্ঠী

সাংগ্রাই: জলকেলিতে সিক্ত মারমা জনগোষ্ঠী

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান

সাংগ্রাই: জলকেলিতে সিক্ত মারমা জনগোষ্ঠী

মারমাদের প্রাণের উৎসব মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে। এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ জলকেলি বা মৈত্রী পানি বর্ষণ। পুরনো বছরের শুদ্ধ জলের মাধ্যমে দুঃখ গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরটিকে গ্রহণ করার নামই জলকেলি উৎসব। যাকে মারমা ভাষায় বলা হয় রিলং পোয়ে। এই উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে।

বিজ্ঞাপন

১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাংগ্রাই উৎসবে বুধ ও বৃহস্পতিবার জলকেলিতে মেতে উঠেছে প্রতিটি পাড়া-মহল্লার তরুণ তরুণীরা।

শুক্রবার তৃতীয় দিন রাজার মাঠের বড় আয়োজন শেষ হলেও পাড়ায় পাড়ায় চলবে বিভিন্ন আয়োজন।

গতকাল বিকালে রাজারমাঠে দেখা যায় পানিভর্তি দুটি নৌকার দুইপাশে দাঁড়ানো তরুণ-তরুণী। পরনে ঐতিহ্যবাহী মারমা সম্প্রদায়ের রঙিন পোশাক। একটু দূর থেকে বিচারক বাঁশি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মগ দিয়ে নৌকা থেকে পানি তুলে সামনের পক্ষকে একযোগে নিক্ষেপ করছে। আর বিপরীত পক্ষও দেহে পাল্টা জল ছিটিয়ে তার প্রতি-উত্তর দিচ্ছে।

এভাবেই বান্দরবান শহরের রাজারমাঠে তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে মৈত্রীপানি বর্ষণে মেতে উঠেছে মারমা তরুণ-তরুণীরা। তাদের বিশ্বাস পুরোনো বছরের সব গ্লানি ও দুঃখ জলে মুছে নতুনভাবে পরিশুদ্ধির হবে। পানি খেলার পাশাপাশি

মঞ্চে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। সামনে থাকা হাজারো নারী পুরুষ গানের তালে তালে নেচে-গেয়ে মাতিয়ে রেখেছেন রাজার মাঠ।

সাংগ্রাইং উৎসব উৎযাপন কমিটির সভাপতি চ নু মং মার্মা বলেন, প্রতি বছর বান্দরবানে মৈত্রী পানিবর্ষণ এক বা দুই দিনের আনুষ্ঠানিকতা হলেও এবার বাড়িয়ে করা হয়েছে তিনদিন। তিনি আরো বলেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতিগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে সাংগ্রাই উৎসবে। তারা যাতে আগামীতে আমাদের এই সংস্কৃতিগুলো রক্ষা করতে পারে।

আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং সহ মার্মা সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, এটি শুধু একটি উৎসব নয়, সবার মিলনমেলা। কারণ বান্দরবানে শুধু মারমা নয়, ১১টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। যেই জেলা সম্প্রীতির মেলবন্ধন হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, বুদ্ধমূর্তির স্নান অনুষ্ঠানের পরপরই মারমা সম্প্রদায় জলকেলি উৎসবসহ নানান আচার-অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে। যার মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা, পিঠা তৈরির উৎসব উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বলিখেলা, তৈলাক্ত বাঁশ আরোহণ, ম্যারাথন দৌড়, ফুটবল প্রীতি ম্যাচসহ লোকজ ক্রীড়াও তুলে ধরা হয়েছে সাংগ্রাই উৎসবের এবারের আয়োজনে।

বুধ ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় শহরের রাজার মাঠে শুরু হয়ে

জলকেলি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। রাতে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জলি মং মারমা জলকেলি অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন। এসময় আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কেএস মং মারমা, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক মংনুচিং মারমাসহ পাহাড়ি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...