রংপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

উপজেলা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে শুরু হওয়া টানা তিন ঘণ্টার ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

বিজ্ঞাপন

তীব্র বাতাসে শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি, আলমপুর ও কুর্শা ইউনিয়নে ঝড়ের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। হাড়িয়ারকুঠি ও আলমপুরে বেশ কয়েকটি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও কাঁচা ঘর মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার আতঙ্কে পড়ে।

২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কারও ঘরের চালা উড়ে গেছে, আবার কারও ঘরের বেড়া ভেঙে পড়েছে। অনেক পরিবারকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে থাকতে দেখা গেছে।

ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুহিন জানান, তার ওয়ার্ডের প্রায় ২০টির বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি ঝড়ে চুরমার হয়ে গেছে।

এদিকে ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গাছ ও ডালপালা পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহায়তায় সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়।

তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ের সময় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় একাধিক লাইনের তার ছিঁড়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ঝড়ের সময় বজ্রপাত ও তীব্র বাতাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন