“আমার বাবা ঘরে ছিলেন। মজিদ আর মোরশেদ বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পেছনে বাবা, মজিদ ও মোরশেদ হেঁটে যাচ্ছেন। যাওয়ার দুই মিনিট পরই পরপর তিনটি গুলির শব্দ শুনি। সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌড়ে এসে বলে—ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আমার মা-ও আসেন। বাবা তখনো ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলছিলেন।”
কথাগুলো বলছিলেন লক্ষ্মীপুরে গুলিতে নিহত ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের (৪৫) মেয়ে প্রেমা আক্তার (১৯)। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশেই খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরিবারের অভিযোগ, ইটভাটায় মাটি বিক্রির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রেমা আক্তার আরও বলেন, আমার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে নানান মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তবে আমাদের মনে হয় দলীয় কারণে তাকে মারা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে মারা হলে তিনি আওয়ামী লীগের আমলেই আক্রান্ত হতেন। মূলত তিনি মাটির ব্যবসা করতেন, আর এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার লোকেরা বাবার পেছনে লেগে ছিল। এর আগেও মাটির ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে, মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ আছে কি না জানি না, তবে মূল কারণ মাটির ব্যবসা। মৃত্যুর আগেও বাবা হিরু, ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলে গেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছোট্টু ও মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ইব্রাহিম ছোট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ রানার বাড়ি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছোট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু ও জহিরসহ ৫-৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খোরশেদকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খোরশেদ দিলশাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



