কুষ্টিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যে ঘাটতি ছিল, আজকের রায়ের মাধ্যমে তা পূরণ হলো। এটি সবার জন্যই শিক্ষণীয়। জুলুম, নির্যাতন ও নির্বিচারে মানুষ হত্যার মাধ্যমে পার পাওয়া যায় না—এই রায় তা প্রমাণ করেছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এতে।’
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় গণহত্যার ঘটনায় আজ ছয়জন হত্যা মামলার রায় হয়েছে। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক থাকায় রায় কার্যকর নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারকে অনতিবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে রায়ে কুষ্টিয়ায় নিহত শহীদদের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও দ্রুত রায় কার্যকর করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সরাসরি গুলিবর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় না আনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই।
শহীদ বাবলু ফারাজীর ছেলে সুজন মাহমুদ বলেন, ‘আমার বাবাসহ ছয়জনকে হত্যার পেছনে নির্দেশদাতাদের শাস্তি ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে যেসব পুলিশ সদস্য সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, তাদের নাম এই রায়ে নেই। আমরা চাই সরকার যেন গুলি চালানো পুলিশদেরও বিচারের আওতায় আনে এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত সাজা কার্যকর করে।’
নিহত শহীদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবনী আক্তার ইতি বলেন, ‘আমার স্বামী গত ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আজকের রায়ে আমি ও আমার সন্তানরা খুশি। কিন্তু প্রধান আসামিরা পলাতক থাকায় রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।’
শহীদ সুরুজ আলী বাবুর স্ত্রী ফাহিমা খাতুন ও মাতা রেহেলা খাতুনও অবিলম্বে রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
অন্যদিকে রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধা তৌকির আহমেদ বলেন, ‘আজকের রায় সন্তোষজনক হলেও আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম হানিফের মতো অন্য আসামিদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কারণ তাঁরা শেখ হাসিনার শাসনামলে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে কুষ্টিয়ায় সমান তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও, আমরা চাই ঘোষিত রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

