কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ সরকারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতা দাবি করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ফরিদ সরকার বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক চিঠির মাধ্যমে তিনি তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানতে পারেন। ওই চিঠিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার স্বাক্ষর ছিল। সেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, বাড়িতে ঘুমাতে পারিনাই, পুলিশের ভয়ে ঠিক মতো নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারিনাই, তারপরও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এতো ত্যাগের পরও ২০২৫ সালে ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া আমার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পুনরায় ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে জানালে ওই ক্ষোভের জেরে জাতীয় নির্বাচনের পর আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফরিদ সরকার আরো বলেন, আমি ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হই। তিনি আমাকে একই বছর বৃহত্তর ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন, পরবর্তীতে যুবদলের সভাপতি এবং পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সর্বশেষ ২০২৫ সালেও তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়া বলেন, দলীয় পদে থেকেও ফরিদ সরকারসহ একটি চক্র দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, যার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। একই অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

