ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন নানা কারণে ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ।
এবারই প্রথম প্রবাসীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের শেষ সময় পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৪০ হাজার প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নিবন্ধনের শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) সংসদীয় আসন এবং সর্বনিম্ন নিবন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসন।
জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসীরা সম্মুখ সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে ভোটের মাঠে তাদের সমর্থন কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ব্যালট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আসনভিত্তিক প্রবাসী নিবন্ধন তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে মোট ১৪ হাজার ৩০১ জন, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৬ হাজার ৭৬৩ জন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে ৫ হাজার ৬০৫ জন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া) আসনে ৫ হাজার ২৮৪ জন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে ৩ হাজার ২১৯ জন এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ৩ হাজার ২০১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটের আগেই এসব ব্যালট পুনরায় দেশে পৌঁছে দিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পৌঁছালে সেগুলো অন্যান্য ভোটের সঙ্গে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রবাসীদের ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা প্রবাসে সফর করেছেন। পাশাপাশি প্রার্থীদের সমর্থকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত প্রবাসীদের সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত। অনেকের ধারণা, প্রবাসীদের ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৌদি আরবপ্রবাসী মোহাম্মদ মুরাদ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান। তিনি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ভোটার। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে ভোটার হয়েছি, কিন্তু কখনো ভোট দিতে পারিনি। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আমরা প্রবাসীরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে খুবই আনন্দিত। ৫৪ বছরে অনেক শাসক এসেছে ও গেছে, কিন্তু কেউ প্রবাসীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি। এবার ড. ইউনূস সরকারের সহযোগিতায় আমরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
কাতারপ্রবাসী শাহাদাত হোসেনও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ভোটার। প্রবাস থেকে এবারই প্রথম তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি বলেন, ‘ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। তবে এটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


পোস্টাল ভোট দিতে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটারের নিবন্ধন