শরৎকালকে প্রকৃতির রানি বলা হলেও গ্রীষ্ম প্রকৃতিকে নতুন রূপে, নতুন সাজে সাজিয়ে তুলে। এ গ্রীষ্মেই গ্রাম বাংলার সব প্রান্ত নতুন ফুলের সমাহারে সেজে ওঠে। এর ব্যতিক্রম নয় কুমিল্লাও। নগরীর রাস্তার মোড়, ভবন ও অফিস পাড়ায় গাছে গাছে ছেয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়ার লাল আভায়। সৃষ্টি হয়েছে বৈচিত্র্যময় পরিবেশ। এমন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ চোখ জুড়াচ্ছে প্রকৃতি প্রেমীদের।
সবুজ গাছগাছালির মধ্যে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিতে এনেছে ভিন্ন আমেজ। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে বৈশাখের আকাশে কৃষ্ণচূড়া মেলে ধরেছে তার রূপ। বাহারি এ ফুলের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য প্রকৃতিতে এনেছে উজ্জ্বলতা। কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি পথিকের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। সড়ক-মহাসড়কের যাত্রীরা এর রূপ দেখতে দেখতে গন্তব্যে পৌঁছান। কুমিল্লা জুড়ে শত শত লাল রাঙা কৃষ্ণচূড়া গাছ যেন এমনি এক বার্তা দিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পুলিশ লাইন মোড়ের কৃষ্ণচূড়া গাছটি।
দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি নানান রঙে সাজতে পছন্দ করে এই কৃষ্ণচূড়া। তিন রকমের সাজ গায়ে জড়িয়ে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করে। লাল, হলুদ ও সাদা রঙের বাহারি সাজে মানুষকে মুগ্ধ করে কৃষ্ণচূড়া। হলদে এবং সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়ার দেখা মেলে কালেভদ্রে। এর নাম নিয়ে স্থানীয় অনেকের ধারণা, রাধা ও কৃষ্ণের সঙ্গে নাম মিলিয়ে এর নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া। এ ফুল ফুটতে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় বলে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে এই ফুল ফুটে থাকে।
কুমিল্লা নগরীর কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন পরিপূর্ণ পরিচর্যা নিয়ে টিকে থাকতে পারে। নগরীর নতুন করে প্রশস্ত করা রাস্তার মাঝে ও পাশে আরো কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কুমিল্লা নগরীর সচেতন মহল।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরীর রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অফিস, বাসভবনে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া গাছ ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এসব গাছে গাছে ফুটে থাকা লাল ফুল পুরো নগরকে রাঙিয়ে তুলেছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামসুল আরেফিন রোজেল বলেন, একটি অনিন্দ্য সুন্দর ফুলের নাম কৃষ্ণচূড়া, যা হিন্দিতে গুলমোহর নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রিজিয়া । এটি শিম গোত্রীয় উদ্ভিদ। এর ফল দেখতে শিমের মতো। দেশে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া তার সৌন্দর্য ছড়াতে থাকে। পথের দেই ধারে সবুজ পল্লবের ফাঁকে কৃষ্ণচূড়ার টকটকে রূপ দেখে পথিক বিমোহিত হয়। এটি আমাদের দেশীয় ফুল নয়। শোনা যায় কৃষ্ণচূড়া এসেছে মাদাগাস্কার থেকে। আমাদের দেশে এটি কীভাবে ‘কৃষ্ণচূড়া’ নাম ধারণ করেছে সে সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্টভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বৃক্ষপ্রেমিক দ্বিজেন শর্মার মতে, বসন্তে কৃষ্ণচূড়া ফোটে না, আর ফুলের বাজারেও কৃষ্ণচূড়া বিকোয় না। তবুও কৃষ্ণচূড়ার কদর আর রূপের ঝলক তাতে একবিন্দুও কমে না।
কুমিল্লা থেকে বাইকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী আরমান চৌধুরী। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া দেখে বাইক থামিয়ে ছবি তোলেন । তিনি জানান, কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো দেখে খুবই সুন্দর লাগছে । এগুলোর সঙ্গে ছবি না তুললেই নয় ।
কুমিল্লা পুলিশ লাইনের কৃষ্ণচূড়া গাছটির নিচে কুমিল্লা কৃষি ব্যাংকের শাখা। এ শাখার ব্যবস্থাপক এজিএম মো. রায়হান উদ্দিন বলেন, সকালে ব্যাংকে এসে কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো দেখেই মন ভরে যায় । গ্রাহকরা কৃষ্ণচূড়ার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

