তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে সাহিদ বেপাীর হাতপাখা। দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঐতিহ্যবাহী এই হাতপাখা। হাতপাখা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন ৭০ বছর বয়সি সাহিদ বেপারী। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আমতলী এলাকায় বসবাস করছেন তিনি । প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে বসে হাতপাখা বিক্রি করেন তিনি। রাজশাহী ও নওগাঁ থেকে সংগ্রহ করে আনা বিভিন্ন ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে রাখেন ছোট দোকানে। শেষ বয়সে এসেও থেমে নেই সাহিদ বেপারীর সংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে একই পেশায় থেকে তিনি শুধু নিজের জীবিকা নির্বাহই করছেন না, বরং ধরে রেখেছেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিক্রির জন্য তার কাছে রয়েছে তালপাতার তৈরি হাতপাখা এবং রঙিন কাপড়ে সুঁই-সুতার কারুকাজ করা নান্দনিক হাতপাখা। তালপাতার তৈরি প্রতিটি পাখা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কাপড়ের তৈরি পাখা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।
সাহিদ বেপারী বলেন, আগে এ পাখার চাহিদা অনেক বেশি ছিল। এখন বৈদ্যুতিক ফ্যানের কারণে কিছুটা কমেছে। কিন্তু লোডশেডিং বাড়লে বিক্রি বাড়ে। গরম যত বেশি পড়ে, আমাদের আয়ও তত বাড়ে। তিনি প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০টি হাতপাখা বিক্রি করেন। এ বিক্রি থেকে অর্জিত আয় দিয়ে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে অথবা বাইরে চলাফেরার সময় হাতপাখাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সহজ সমাধান। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক ও খোলা জায়গায় কর্মরত মানুষের জন্য এটি এখনো অপরিহার্য।
এদিকে, চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনের বেলা প্রখর রোদে কাজ করতে গিয়ে তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতেও স্বস্তি মিলছে না।
ফলে কম খরচে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে অনেকেই ঝুঁকছেন হাতপাখার দিকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যেখানে হাতপাখা শুধু গ্রামাঞ্চলে বেশি ব্যবহৃত হতো, এখন শহরেও এর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গরমে এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এর বিক্রি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

