উন্নয়নবৈষম্য দূর করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান

উন্নয়নবৈষম্য দূর করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান

বান্দরবান শহরের হিলভিউ কনভেনশন সেন্টারে বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা, বন্যা মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সভায় তিন পার্বত্য জেলার নাগরিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন বৈষম্য ও জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু জাফর বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি বা সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগের মধ্যে আটকে থাকা উচিত নয়। রাজধানীর একজন তরুণ দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখলে পাহাড়ের একজন তরুণও যেন সমান সুযোগে সেই স্বপ্ন দেখতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াতের জেলা আমির এইচ এম আব্দুচ ছালাম আজাদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে। টেকসই সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবাদকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ধারা বিকশিত করতে হবে। এ জন্য ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়ালের পরিবর্তে দেশের সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।

জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ওসমান গণি, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশিদ ও জসিম উদ্দিন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকে ঘিরে বিভাজন নয়, সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। উন্নয়ন বৈষম্য দূর হলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রের সুযোগও কমে আসবে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও পার্বত্য গবেষক এ এইচ এম ফারুক বলেন, নিজেদের অধিকার ও ইতিহাস সম্পর্কে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানই সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কিছু আমলা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখনও ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়ালকে সামনে এনে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বাঙালিরা বসবাসের সুযোগ পেয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক বলেন, দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিদেশি গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নানা এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে কিছু বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ধর্মান্তরকরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাংবাদিক শাহরিয়ার হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বান্দরবান ইসলামী আন্দোলন জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হক, সাংবাদিক কামাল পারভেজ, খাগড়াছড়ি যুব পরিষদের সভাপতি জালাল মিয়া ও ছাত্রনেতা আসিফ ইকবাল।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন