আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন ৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

আনছার হোসেন, কক্সবাজার

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুন ৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড টানা সাত ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও বিমান বাহিনীর ১০টি ইউনিটের যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞাপন

ইতোপূর্বে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ‘এন আলম ফিলিং স্টেশন’ নামের সদ্য নির্মিত ওই এলপিজি গ্যাস পাম্পটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য আটজনকে চট্টগ্রাম ও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই আগুনে পাম্পের আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ৯টি ইউনিটের যৌথ চেষ্টায় রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং একটি গ্যারেজে রাখা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকায় বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেছেন, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। পুলিশ অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কাজ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্যাস পাম্পের লিকেজ থেকে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস এসে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও রাত ১০টার দিকে বিকট শব্দে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় গ্যাস পাম্পের খালি জায়গায় পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণস্থলের পাশে আরেকটি গ্যাসভর্তি ট্যাংক থাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত সেটি রক্ষা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই আমরা। দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় দফায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীসহ অন্য সংস্থার ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, অনুমতিবিহীন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই এই গ্যাস পাম্প চালুর কাজ চলছিল। যদিও পাম্পটি এখনো চালু করা হয়নি। চালু করার জন্য গ্যাস আনলোড করা হচ্ছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...