চর দখল নিয়ে ট্যাটাযুদ্ধে নারী নিহত, আসামি ৬১

পুলিশ আতঙ্কে নারী-পুরুষশূন্য তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম

পুলিশ আতঙ্কে নারী-পুরুষশূন্য তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম
ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে ট্যাটাযুদ্ধের ঘটনায় বিনোদপুর গ্রামের কোহিনূর আক্তার নামের এক নারী ট্যাটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় নিহত কোহিনূরের স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জুলাই রাতে তিতাস উপজেলার ভাটেরারচর গ্রামের ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মেঘনা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, তিতাসের নতুন ভাটেরাচর মাইনুদ্দিন, মো. হান্নান, কাশেম ব্যাপারী, মো. রানা ও মজিদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. সুরুজ মিয়া। এদিকে পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম নারী-পুরুষশূন্য হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে ভাটেরারচর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যান। সেখানে চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখে। বিষয়টি জানাজানির পর তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনার জের ধরে ওইদিন বিকালে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামবাসীর ট্যাটাযুদ্ধ শুরু হয়। তাদের মধ্যে মেঘনার বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার গলায় ট্যাটা বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফের বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে ভাটেরারচর গ্রামে এসে আনুমানিক ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ তুলছেন ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন। ভাটেরাচরের মৃত অহিদ মিয়ার স্ত্রী আলতামুন নেছা, প্রবাসী মজিবুর রহমানের স্ত্রী আফিয়া বেগম এবং বৃদ্ধ শামসুন্নাহার বলেন, ‘সোমবার সকালে মেঘনার বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন এসে আমাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে লুটপাট করে সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আমরা গ্রামে যেতে পারি না। তারা স্থানীয় এমপি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া ও তিতাস থানা পুলিশের সহযোগিতা চান, যাতে তারা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাড়িতে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিহত কোহিনূরের হত্যার বিচারও দাবি করেন তারা।

মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনার চরবিনোদপুর, আলীপুর গ্রামের লোকজন ও তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে মারামারির সময় মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা কোহিনূর আক্তার নামের এক নারী ট্যাটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

এ ঘটনায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে নিহতের স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জুলাই রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারনামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন