আদালতের অবমাননার অভিযোগে কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল

আদালতের অবমাননার অভিযোগে কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল
ছবি: আমার দেশ

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা একটি পণ্যের চালান খালাস না দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার তৌহিদা ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইয়াসির আরাফাতের করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে আমদানি চালান খালাস না দেওয়ায় কেন তৌহিদা ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে তাকে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর নোটিশ তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হাইকোর্ট সাত দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই আদেশ বাস্তবায়ন না করায় আদালত আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পাকিস্তান থেকে ২৮ টন রক সল্ট আমদানি করে। এ চালানের বিল অব এন্ট্রি গত ৫ মে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে দাখিল করা হয়। তবে ১৫ দিনের বেশি সময় পার হলেও চালানটি খালাস না হওয়ায় আমদানিকারক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

শুনানি শেষে গত ২১ মে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে চালানটি খালাস দিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, ২৪ মে ঈদের ছুটির কারণ দেখিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ আদালতের আদেশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ১ জুন আদেশ গ্রহণের পর ৭ জুন আমদানিকারককে পাঠানো এক চিঠিতে কাস্টমস জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়া চালানটি খালাস দেওয়া সম্ভব নয়।

এরপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ২১ জুন আপিল বিভাগে আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। তবু চালানটি খালাস না হওয়ায় গত ১৫ জুলাই সহকারী কমিশনার তৌহিদা ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন আমদানিকারকের আইনজীবী। সেই আবেদনের শুনানি শেষে আজ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আমদানিকারকের দাবি, দুই মাসের বেশি সময় ধরে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকায় স্টোর রেন্ট ও শিপিং ডেমারেজ বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা পণ্যের আমদানি মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...