সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. ইদ্রিস আলী (৫০) মারা যান। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

বিজ্ঞাপন

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত একজন শ্রমিক চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রুবেল আফ্রাদ জানান, মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. ইদ্রিস আলী (৫০) মারা যান। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের বদ্ধ ট্যাংকে কাটাকাটির কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন কয়েকজন শ্রমিক। গ্যাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন ইদ্রিস আলীর মৃত্যুতে এ ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। তবে কী ধরনের গ্যাস কীভাবে জমেছিল এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার পর ওই ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একের পর এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বদ্ধ জাহাজের ট্যাংক বা কক্ষে শ্রমিকদের প্রবেশের আগে পর্যাপ্ত গ্যাস পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ ও গ্যাসমুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, শ্বাস-প্রশ্বাসের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে শোকের মধ্যে রয়েছেন নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা। ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন