সন্দ্বীপে পুলিশ সদস্যকে অপহরণ ও মারধর, মূলহোতা গ্রেপ্তার

সন্দ্বীপে পুলিশ সদস্যকে অপহরণ ও মারধর, মূলহোতা গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী একটি পোস্টে মন্তব্য করার জেরে সন্দ্বীপে এক পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, অপহরণ এবং চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. করিমকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ।

রোববার উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাট এলাকা থেকে গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এসপিবিএন-১) কর্মরত কনস্টেবল ইসমাঈল হোসেন ছুটিতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তিনি পণ্ডিতের হাটের একটি সাইকেল মেরামতের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকে সংঘবদ্ধ করিমসহ ১৫-২০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে। তারা ইসমাঈলকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় খুশি জামে মসজিদের পাশের একটি নির্জন সড়কে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে জিম্মি করে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ইসমাঈলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয়রা জানান, মুছাপুর ইউনিয়নের ‘ধাম’ নামের একটি নির্জন এলাকা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অপরাধের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো ভয়ংকর সব অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃত করিমের বিরুদ্ধে গত বছর সাংবাদিক মিলাদ উদ্দিন মুন্নাকে তুলে নিয়ে মারধর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায়ও থানায় মামলা হয়েছিল।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন