চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ আটক ২

চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ আটক ২
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে উম্মে হাবিবা (২৪) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজী চান মিয়া রোডের কালারপুল এলাকার কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার বাসা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের স্বামীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই। পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন নিহতের বড় ভাই মো. ইদ্রিস রানা (৩৭) বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় নিহতের স্বামী ছাড়াও আরও চারজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসান (২৪), তাঁর বোন শাকিলা (২২), ভাই বখতিয়ার হোসেন (৩৬), মা রওশন আক্তার (৫৩) এবং বখতিয়ারের স্ত্রী জারিয়াতুল মোস্তাফা বেগম (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর এলাকায়।

এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁরা পাঁচলাইশের কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার বাসায় বসবাস করতেন। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মাহমুদুল হাসান তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দাবি করে আসছিলেন। মাহমুদুল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

টিউশন ফির টাকা না দেওয়ায় হাবিবাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ররোচনায় এই নির্যাতন চলত। বিভিন্ন সময়ে হাবিবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব নির্যাতন সহ্য করেও হাবিবা সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে বোনের লাশ নিতে এসে নিহতের বড় ভাই ইদ্রিস রানা বলেন, ‘আমাদের এক চাচাতো ভাইকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোন করে হাবিবার আত্মহত্যার খবর দেন। খবর পেয়ে আমরা মাহমুদুল হাসানের বাসায় গিয়ে বোনের মরদেহ দেখতে পাই। এ সময় মাহমুদুল আমাদের জানান, হাবিবা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।’

ইদ্রিস রানা আরও বলেন, ‘পেশাগত কারণে আমি চট্টগ্রাম নগরীতেই থাকি। অথচ বোনের মৃত্যুর খবর আমাকে সরাসরি ফোন না করে চাচাতো ভাইকে জানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কারণেই আমার বোন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, আমরা সে আশঙ্কামাও করছি।’

নিহত উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী মাহমুদুল হাসান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের মোবারক আলীর ছেলে। অন্যদিকে হাবিবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবির ও সাবেকুন নাহারের ছোট মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন।

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন