বিচ্ছেদের পরও স্বামীর বাড়ি ছাড়ছেন না তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী, ভয়ে দুই বছর ঘরছাড়া মা

বিচ্ছেদের পরও স্বামীর বাড়ি ছাড়ছেন না তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী, ভয়ে দুই বছর ঘরছাড়া মা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিবাহবিচ্ছেদের দুই বছর পরও স্বামীর বাড়ি ছাড়ছেন না তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী। এ নিয়ে থানা-পুলিশ ও সালিশ-দরবার করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ভুক্তভোগী সাবেক স্বামী শওকত হোসেন ও তার মা-বোনেরা দুই বছর ধরে ঘরছাড়া। উল্টো একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সাবেক স্বামী শওকত হোসেনের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রবাসী শওকত হোসেন, তার মা মাসুমা আহমেদসহ গ্রামবাসী।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে শওকত হোসেন দাবি করেন, টিকটকের মাধ্যমে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার লস্করপুর গ্রামের ইব্রাহীম মাস্টারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ১ মার্চ মামাকে সঙ্গে নিয়ে কনে হিসেবে জেসমিনকে দেখতে গেলে জেসমিনের স্বজনেরা জোরপূর্বক তার সঙ্গে শওকতের বিয়ে দিয়ে দেন। পরবর্তীতে সমাজের মুরুব্বিদের পরামর্শে শওকত তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ। বিভিন্ন হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৭ জুলাই জেসমিনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শওকত। কয়েকমাস পর শওকত কাতার চলে যান। এরই মধ্যে তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তারপর থেকে জেসমিন বিভিন্ন সময়ে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার দাবি করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেসমিনকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেন শওকত। তবুও সংসারে শান্তি ফেরেনি। জেসমিন উল্টো শওকতের মা-বোনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। এর মধ্যে তাদের আরেকটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। উভয়ের বনিবনা না হওয়ার একপর্যায়ে কাতার থেকে জেসমিনকে তালাক দেন শওকত। জেসমিন সেই তালাক আইনগত হয়নি বলে দাবি করলে শওকত দেশে ফিরে গত বছরের মার্চ মাসে পুনরায় আদালতের মাধ্যমে জেসমিনকে তালাক দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেসমিন শওকতের মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেন এবং তার বোনদের বাড়িতে আসতে দেন না। এমনকি তিনি সারাক্ষণ ঘরের ভেতর সশস্ত্র অবস্থায় থাকেন এবং এভাবেই গত দুই বছর সাবেক স্বামীর বাড়ি দখল করে আছেন। এ ঘটনায় সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর শওকত হোসেন বাদী হয়ে উপজেলার কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জেসমিন আক্তার ভুয়া স্ট্যাম্প বানিয়ে প্রবাসী শওকতের কাছে ৯ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার পাবেন বলে মিথ্যাচার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামের সালিশকার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর ওই নারীকে তার পাওনা বুঝে নিতে বহুবার গ্রাম ও থানায় সালিশ-দরবার হয়েছে। সেখানে ওই নারীকে পাওনা বুঝে নিতে তার পরিবারকে নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো একের পর এক মামলা করে শওকতের পরিবারকে হয়রানি করছেন। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে শওকতের মা মাসুমা আহমেদ অভিযোগ করেন, ছেলের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী জেসমিন আক্তার আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গত দুই বছর আমি ঘরছাড়া। প্রশাসনের নিকট তার অত্যাচারের বিচার চাই।

অভিযোগ তদন্তকারী কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে তদন্ত করছি। জেসমিন আক্তার সাবেক স্বামীর কাছে বিভিন্ন পাওনার কথা বলেছেন, কিন্তু তার কাছে সেগুলোর কোনো উপযুক্ত প্রমাণ নেই। জেসমিন আক্তার তার দাবিকৃত পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত সাবেক স্বামীর ঘর ছাড়বেন না বলে জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন