দ্বিগুণেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে বিএনপির দুর্গখ্যাত মুন্সীগঞ্জ–২ আসন পুনরুদ্ধার করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। স্থানীয়দের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল এ আসনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলের একতরফা নির্বাচনগুলো।
স্থানীয় ভোটার নায়েব আলী (৭২) বলেন, “আমরা সবাই ধানের লোক। ঠিকঠাক মতো ভোট হইলে ধানের শীষ ছাড়া অন্য মার্কা পাশ করব, এটা কল্পনাতেও সম্ভব না।” তার এই মন্তব্যেই যেন এ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আব্দুস সালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে. এম. বিল্লাল (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৮৭ ভোট। জাতীয় পার্টির মো. নোমান মিয়া (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৭ ভোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ (চেয়ার) পেয়েছেন ৬৫১ ভোট।
মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৩৩ ভোটারের এ আসনে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ২৩৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এ আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে, ভোটে অংশ প্রার্থী কে. এম. বিল্লাল (হাতপাখা), মো. নোমান মিয়া (লাঙ্গল) এবং আশিক মাহমুদ (চেয়ার) ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরপরই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। বিজয়ী প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ আল্লাহ তাআলার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও জোটগত সমঝোতার কারণে জামায়াতের এবিএম ফজলুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের আমিনুল ইসলাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। শেষ পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

