আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অষ্টগ্রামে রাস্তা ছাড়াই ‘ভূতুড়ে’ সেতুতে চরম জনভোগান্তি

সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

অষ্টগ্রামে রাস্তা ছাড়াই ‘ভূতুড়ে’ সেতুতে চরম জনভোগান্তি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জনমানবশূন্য এলাকায় খালের ওপর নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ এখন স্থানীয়দের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের পাঁচ বছর পার হলেও দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় প্রায় ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। উল্টো এটি সরকারি টাকা অপচয়ের বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ব্রহ্মপুরা খালে ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় এ গার্ডার ব্রিজ।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দুপাশে কোনো রাস্তা নেই। মানুষ স্লাব ও ইটের সিঁড়ি বেয়ে কোনোমতে সেতুতে উঠলেও বয়স্ক ও শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেতুটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নেই আর উত্তর পাশে রয়েছে একটি কাঁচা ডুবো সড়ক। সেতুটির ৩০০-৪০০ ফুট দূরেই একই খালে আরেকটি সেতু রয়েছে।

স্থানীয় তাইফুর রহমান বলেন, দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। আমার জমির ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটে। সেখানে কেন এত বড় ব্রিজ করা হলো তা জানি না। পাঁচ বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

অভিযোগ উঠেছে, কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় বাজিতপুরের মেসার্স মেরিন এন্টারপ্রাইজ। তবে বাস্তবে কাজটি করেন স্থানীয় ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন-সংযোগ সড়ক ছাড়া কীভাবে এ প্রকল্পের বিল অনুমোদন হলো এবং কেন পাঁচ বছরেও এর সুরাহা হলো না।

ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ মুঠোফোনে দাবি করেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়েছিল কিন্তু বর্ষার পানিতে মাটি সরে গেছে। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা হবে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া জানান, হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। রাস্তাটি মেরামতের জন্য তিন মাস আগে তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...