গ্যাসের সংকটে সিএনজি কমেছে সড়কে, আর সেই সুযোগে বেড়েছে ভাড়া। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার-মদনপুর সড়কে কয়েক দিন ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মদনপুর থেকে আড়াইহাজারের ভাড়া ৬০ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আর মদনপুর থেকে বিশনন্দী ফেরিঘাট পর্যন্ত ৯০ টাকার ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
শুক্রবার আড়াইহাজার-মদনপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কে সিএনজির পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসও কম চলাচল করছে। ফলে বিকল্প না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
মদনপুর থেকে বিশনন্দী ফেরিঘাটে যাতায়াতকারী শাহিদা বেগম বলেন, তিনি মদনপুর থেকে সিএনজিতে উঠেছেন। ফেরিঘাটে পৌঁছে তাকে ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। চালক আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন, ২০০ টাকার এক টাকা কম নেবেন না। যেতে চাইলে যেতে হবে, না হলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে; এমনটাই তাকে বলা হয়েছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে মদনপুর থেকে আড়াইহাজার পর্যন্ত সিএনজির ভাড়া ৬০ টাকা। একইভাবে মদনপুর থেকে বিশনন্দী ফেরিঘাট পর্যন্ত ভাড়া ৯০ টাকা। কিন্তু গত তিন-চার দিন ধরে হঠাৎ করে এ ভাড়া বেড়েছে। শুক্রবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে জানান তারা।
চালকদের দাবি, গ্যাসের সংকটের কারণে তাদের এই বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে। সিএনজি চালক আফজাল মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট চলছে। দিন দিন সংকট আরও বাড়ছে। সকালে গাড়ি নিয়ে গেলে গ্যাস পেতে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় গ্যাস নিতে এক দিনই পার হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তারা ভাড়া বাড়িয়েছেন। এটি সাময়িক বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকট থাকলেও এর দায় তাঁদের ওপর চাপানো ঠিক নয়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি ভাড়া নেওয়া হলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হাতাহাতিতেও গড়াচ্ছে।
যাত্রীদের কয়েকজনের অভিযোগ, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তাঁরা দেখছেন না। ফলে চালকেরা অনেকটা জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

