আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভর্তুকির গরুর গোশত কিনতে স্বচ্ছলদের উপচে পড়া ভিড়, বঞ্চিত গরিব

উপজেলা প্রতিনিধি, রাজৈর (মাদারীপুর)

ভর্তুকির গরুর গোশত কিনতে স্বচ্ছলদের উপচে পড়া ভিড়, বঞ্চিত গরিব

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ভর্তুকি মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি কার্যক্রম শুরু হলেও তা ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কর্মসূচির তৃতীয় দিনেও বিক্রয়কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে—যাদের জন্য এই উদ্যোগ, সেই প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক মানুষই মাংস পাচ্ছেন না; বরং তুলনামূলক স্বচ্ছলরাই সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজৈর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের তথ্যমতে, পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রতিদিন ২০০ কেজি মাংস বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে মাংস কিনতে পারছেন।

কম দামে মাংস বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রথম দিন থেকেই বিক্রয়কেন্দ্রে মানুষের ঢল নামে। তৃতীয় দিনেও সকাল থেকে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন ও উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে সেই ভিড়ের মধ্যেই অনেক নিম্নআয়ের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা মাংস পাচ্ছেন না।

কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “এই কর্মসূচি মূলত গরিব মানুষের জন্য হলেও বাস্তবে অনেক স্বচ্ছল মানুষ এসে লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস কিনে নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজৈরে ভর্তুকি মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২০০ কেজি মাংস বিক্রি করা হচ্ছে এবং একজনকে সর্বোচ্চ ২ কেজি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “মানুষের চাপ এত বেশি যে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। কতদিন এই কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

রমজানে মানুষের স্বস্তির জন্য নেওয়া এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য আলাদা তালিকা বা বিশেষ ব্যবস্থা করা হলে তারা বেশি উপকৃত হতেন। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক দরিদ্র মানুষই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...