ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) সকালে ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার একই ঘটনায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে সংঘর্ষের সময় দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এসময় ভাঙ্গা ফরিদপুর বরিশাল মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষকালে ভাঙচুর করা হয়েছে ১০টি বাড়িঘর ও একটি চটপটি দোকান ঘর। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দু'দিনের (শুক্রবার ও শনিবার) সংঘটিত সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের কয়েকদিন আগে চুমুরদী ইউনিয়নের টিকটকার আকরাম শেখ চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে ঈদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লার বিরুদ্ধে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হয়। ভিডিও প্রচারণা কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ডে আকরাম শেখ ও চেয়ারম্যানের ভাই চন্দন মোল্লার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার জেরধরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়। পূর্বদিনের ঘটনার জেরধরে রাতের বেলায় দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করতে থাকেন। শনিবার সকাল হতেই চেয়ারম্যান সোহাগের লোকজন ও টিকটকার আকরাম শেখের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল সড়কি রামদা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ওঠে। হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করে নিজেদের শক্তি পরীক্ষায় তারা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া চালানোর পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে। এসময় সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ উভয়পক্ষের উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মীনা বেগম জানান, ফেসবুক লাইফ নিয়ে দুই দলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু আমার নিরপরাধ ভাইর চটপটি দোকানটি ভাঙচুর করা হয়েছে। গরিবের ওপর সবাই জুলুম অত্যাচার করে। তিনি চটপটি দোকান যারা ভেঙে ফেলেছে তাদের বিচার দাবী করেন।
টিকটকার আকরাম শেখ জানান, তথ্য ভিত্তিতে ভিডিও প্রচার করেছি। চেয়ারম্যানের ভাই ও তাদের লোকজন আমার ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় আমাদের লোকজন তার প্রতিবাদ করেছে। তিনি হামলার জন্য চেয়ারম্যানকে দায়ী করে বিচার দাবী করেন।
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা বলেন, তথ্য যাচাই না করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালানোর ঘটনায় এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে ও আজ শনিবার সকালে দুই দফায় দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

