ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা নারীকে মারপিট ও আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাকি বেগম নামে এক নারীকে থানায় আটক করে আনা হয়।
নিহত আফরোজা বেগম (৬৫) উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী গ্রামের মৃত মুকতার শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফরোজা বেগমের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের বাচ্চু, টুটুল, গোলাম রসূল ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে সেপটিক ট্যাংকের পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জমিতে পাইপ বসাতে গেলে আফরোজা বেগম বাধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আফরোজা বেগম বাড়ির দিকে ফিরে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায় বলে দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় ও পরিবারের দাবি, গোলাম রসূল নামে এক ব্যক্তি প্রথমে তার মাথায় ঘাসের বোঝা ছুড়ে মারেন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও আছাড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করা হয়।
নিহতের নাতনি সাথী অভিযোগ করে বলেন৷ বাচ্চুর লোকজন আমাদের জমিতে জোর করে সেপটিক ট্যাংকের পাইপ বসাতে যায়। তখন আমি দাদির সাথে ছিলাম। এসময় দাদি বাধা দিলে তারা চার-পাঁচজন মিলে তাকে মারধর করে। আছাড় দিয়ে কিল-ঘুষি মেরে হত্যা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
নিহতের মা ছবিরন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে দখল করার চেষ্টা করছে। আমার মেয়ে বাধা দিতে গেলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন নারীকে থানায় আনা হয়। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
অভিযুক্ত বাচ্চু, গোলাম রসূল ও টুটুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

