গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কে অবস্থিত সেরের খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পটকা, হেরা পটকা ও বাউনী গ্রামের শতাধিক মানুষ যাতায়াত করলেও নেই কোনো টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ।
সেতুর দুপাশের নিচের সাপোর্ট ওয়াল ভেঙে ইট ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে আছে। ছোট-বড় যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি দুলে ওঠে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সেরের খাল পুনঃখননের পর বর্ষা মৌসুমে প্রবল পানির স্রোতে সেতুর নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইট ও মাটি সরে যায়। এরপর থেকে সেতুর নিচে ফাটল দেখা দেয় এবং দিনে দিনে সেটি আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
পটকা গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেতু পার হয়ে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে।’
ডাম্পট্রাকের চালক মফিজ উদ্দিন জানান, সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে একদিন বালুবাহী ট্রাক নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৮৮ সালে পটকা থেকে বাউনী বাজারমুখী সেতুটি নির্মাণ করে। ইটের পিলার দিয়ে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠালেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সেরের খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ—এটি আমাদের নলেজে আছে। গত বছর ও চলতি বছর একাধিকবার ইস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। তবে ফান্ডের অভাবে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। আপাতত সেতুর উভয় পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

