নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

জিপিএ ৫-এর আড়ালে ভয়ংকর কার্যক্রমের অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি

জিপিএ ৫-এর আড়ালে ভয়ংকর কার্যক্রমের অভিযোগ
নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ। ছবি: আমার দেশ

শতভাগ জিপিএ ৫ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

গত রোববার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

নোটিসে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নরসিংদী সদর উপজেলার নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ ৫ অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে।

অভিযোগের সার্বিক সত্যতা যাচাই ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে নোটিসে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, বিভাগ ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমতিপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। নোটিস অনুযায়ী, এসব তথ্যসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শতভাগ জিপিএ ৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ওঠা অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

দেশের আলোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস ২০২৬ সালের এসএসসিতে শতভাগ জিপিএ ৫ অর্জনের রেকর্ড গড়েছে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে শিক্ষার্থীদের বাছাই করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই ব্যাখ্যা তলব করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করেন, তাদের সন্তানরা প্রথম শ্রেণি থেকে ওই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। অনেকে ক্লাস ক্যাপ্টেনও ছিল, খেলাধুলায় ধারাবাহিক অর্জন ছিল। দুঃখ হলো, এসএসসি পরীক্ষার আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, মূল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। অভিযোগ রয়েছে, শতভাগ জিপিএ ৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই নির্বাচনি পরীক্ষাকে বাছাইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বাদ পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে নবম শ্রেণিতে ৬০১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৩৮২ জন। অর্থাৎ নবম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে ২১৯ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

স্কুলের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানান, তাদের নির্বাচনি পরীক্ষায় ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনি পরীক্ষায় বাদ পড়া অনেক শিক্ষার্থী নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সানবীম স্কুলেই ভর্তি হয়েছে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে ১৬ আগস্ট নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং এসএসসির ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের তথ্যসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন