টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ঝড়ে গাছপালা-ঘরবাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত রোববার কাল বৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ-পালা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসহ নিচু জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর শ্যামলার চর, কাঁঠালিয়াবাড়ী, বালাসুতী, বানিয়াজানের বলদী আটা, ধোপাখালী, পাইস্কার প্যারিআটা, টাউরিয়া, মুশুদ্দি, বলিভদ্র ও যদুনাথপুরসহ পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান, ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে শ্যামলার চর এলাকা। সেই সঙ্গে ঘরসহ ভুট্টাগাছ পড়ে গেছে। বোরো ধানক্ষেতে বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং ঝড়ে অনেক ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। যদি আরো টানা ঝড় বৃষ্টি হয়, তাহলে ক্ষেতের ধান আর ঘরে তোলা যাবে না। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।
বীরতারার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার চাষে খরচ বেশি হয়েছে। টানা খরার কারণে বেশি সেচ ও বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। বিলের মধ্যে ২ বিঘা জমির বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে শীষ পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। যদি সময়মতো ধান না কেটে মাড়াই ঝাড়াই করে ঘরে তোলা না যায় তাহলে খুবই ক্ষতির মুখে পড়ব। আরো ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছি আমরা কৃষকরা। সেই সঙ্গে সরকারি সহায়তার দাবি করছি।
বাজিতপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সেজনু জানান, ঝড়ে বিদুৎতের তারের ওপরে গাছপালা ভেঙে পড়ে তার ছিঁড়ে গত তিন দিন যাবৎ বিদুৎবিহীন হয়ে পড়েছে এই এলাকা। খবুই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এবার উপজেলায় ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে কিছু সমস্যা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে এলে চাষিরা ধান কাটা ও মাড়াই আবার শুরু করতে পারবেন।’
ধনবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মিথুন বিশ্বাস জানান, ঝড়ে ধনবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় গাছপালা পড়ে খুঁটির তার ছিঁড়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

