ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ উদ্ভাবন

ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ উদ্ভাবন

ছয়টি গবেষণাগারের ১৬টি উদ্ভাবন নিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী এ মেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাবির গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী রাবির গবেষক ও উদ্ভাবক দলগুলোর নেতৃত্ব দেন।

ফেয়ারে অংশ নেওয়া রাবির গবেষণাগারগুলো হলো—ফার্মেসি বিভাগের প্রফেসর মামুনুর রশীদ ও প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলমের মলিকুলার ফার্মাকোলজি গবেষণাগার, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর মো. আবু রেজার এমবিপিএসএল আই-হাব, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মামুনুর রশিদ তালুকদারের প্লাজমা ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণাগার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মো. হাসনাত কবীরের থ্রিডি প্রিন্টিং গবেষণাগার, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেনের প্ল্যান্ট মলিকুলার বায়োটেকনোলজি গবেষণাগার এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ তৌফিক আলমের ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্ড প্রোটিন কেমিস্ট্রি গবেষণাগার।

এসব গবেষণাগারে স্বাস্থ্য, জীবপ্রযুক্তি, প্লাজমা প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং, উদ্ভিদ জৈবপ্রযুক্তি ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালিত গবেষণার উদ্ভাবনী ফলাফল মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে।

রোববার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেলায় রাবির স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা রাবির গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রদর্শিত বিভিন্ন উদ্ভাবন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকেরা নিজেদের গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছেন। এতে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষক, উদ্ভাবক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ফেয়ারে অংশ নেওয়া রাবির ছাত্র উপদেষ্টা ও ফার্মেসি বিভাগের মলিকুলার ফার্মাকোলজি গবেষণাগারের প্রফেসর ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘আধুনিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উচ্চমূল্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা দৈনন্দিন খাদ্য উপাদানের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় উপাদান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিই। প্রথম পর্যায়ে দেশের বাজার থেকে ৬৮টি শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে সেগুলোর নির্যাস তৈরি করা হয়। পরে ক্যানসার সেল লাইনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে পালং শাক, লেবুর খোসা, ধনিয়ার পাতা ও টমেটো—এই চারটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণা করা হয়। এসব নির্যাস ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ এবং অ্যাপোপটোসিস বা কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মাউস মডেলেও সম্মিলিত নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।’

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও রাবি গবেষণা টিমের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি স্টলে ছয়টি গবেষণাগারের উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, “সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কয়েকটি গবেষণাগারের উদ্ভাবন নির্বাচন করা হয়েছে। এসব উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকদের সৃজনশীল চিন্তা এবং বাজারমুখী গবেষণার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক উদ্ভাবনী গবেষণা চলমান রয়েছে।’

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন